রিমন পালিত: বান্দরবান : কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আজ ১৪ মে বৃহস্পতিবার সকালে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক পরশ চাকমা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ অতনু চৌধুরী
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল হাসান, সমাজসেবা কর্মকর্তা সত্যজিত মজুমদার, প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা সঞ্জয় মিস্ত্রী এবং দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর জেলা সমন্বয়ক জিং দুহ অম বমসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, কুষ্ঠ রোগ কোনো অভিশাপ বা মরণব্যাধি নয়। এটি একটি জীবাণুজনিত রোগ, যা মূলত ত্বক ও স্নায়ুকে আক্রান্ত করে। সময়মতো শনাক্তকরণ এবং নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। বর্তমানে সরকারিভাবে বিনামূল্যে কুষ্ঠ রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান বক্তারা।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, কুষ্ঠ রোগ নিয়ে সমাজে এখনও নানা ধরনের ভুল ধারণা ও ভয় বিদ্যমান রয়েছে। এসব কুসংস্কার দূর করে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং তাদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা কুষ্ঠ রোগ বিষয়ে মুক্ত আলোচনা করেন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বান্দরবানে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করতে “অধিকার ও সামাজিক সুরক্ষা সেবাসমূহ বিষয়ে প্রশিক্ষণ” অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, নারী সদস্য, যুব প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে বক্তারা বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশিক্ষণে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, মাতৃত্বকালীন সহায়তা, ভিজিএফ, ভিজিডি, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সরকারি সহায়তা কর্মসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষ কীভাবে এসব সেবা গ্রহণ করবেন এবং কোথায় যোগাযোগ করতে হবে সে বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, অধিকার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য সেবা সহজেই পাবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি সেবার প্রতি আস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানান।