রিমন পালিত: বান্দরবান প্রতিনিধি: নারীরা দেশের বোঝা নয়, একজন মা ও একটি শিশু দেশের ভবিষ্যৎ। তাই মেয়েদের বাল্যবিবাহের দিকে ঠেলে না দিয়ে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ বেড়ে ওঠার সুযোগ দিতে হবে। একটি শিশুর সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ, ধর্মীয় নেতা ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।বলেছেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজনিন আলম তুলি।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুপুষ্টির উন্নয়ন, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রোয়াংছড়ি এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের রোয়াংছড়ি এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার প্রকাশ চাম্বুগং এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায়প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি।

এই সময় আরও অতিথি উপস্থিত ছিলেন হিউম্যানিটেরিয়ান ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার উসাইম্যা মারমা, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার উবাসাই মারমা, রোয়াংছড়ি থানার সাব-ইন্সপেক্টর শুভ্র মুকুল সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় নেতা, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি আরও বলেন, বাল্যবিবাহ শুধু একটি সামাজিক সমস্যা নয়; এর সঙ্গে কিশোরীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি, অপুষ্টি, মাতৃস্বাস্থ্যঝুঁকি এবং শিক্ষাজীবন ব্যাহত হওয়ার মতো বিভিন্ন বিষয় জড়িত। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজকে আরও সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদেরও সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব, শিশুপুষ্টি, শিশু অধিকার ও সুরক্ষা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনিক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতারা মসজিদ, মন্দির, গির্জাসহ নিজ নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক বক্তব্যের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
এ সময় শিশুদের সুস্থ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য পুষ্টিকর খাবার, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্নতা এবং নিরাপদ পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি শিশুদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অভিভাবক ও সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সভা শেষে রোয়াংছড়িকে বাল্যবিবাহমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা এবং শিশুদের পুষ্টি, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।