রিমন পালিত:বান্দরবান :পাহাড়ের সবুজ জনপদে ফুটবলকে ঘিরে জমে উঠল উৎসব। একই মাঠে বিভিন্ন উপজেলার তরুণদের পদচারণা, গ্যালারিজুড়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর পুরো আয়োজনজুড়ে সম্প্রীতির বার্তা। খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় শুরু হয়েছে সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে বর্ণাঢ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মেজর সায়েম আহমেদ, পিএসসি, জোন উপ-অধিনায়ক, বান্দরবান সদর জোন। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান রিজিয়ন সদর দপ্তরের জিএসও-২ মেজর পারভেজ রহমান, বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফা সুলতানা খান হীরামনি, বান্দরবান রিজিয়ন সদর দপ্তরের জিএসও-৩ ক্যাপ্টেন সামিউল ইসলাম, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, জেলা ক্রীড়া অফিসার মোঃ রেজাউল করিম, বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদের সভাপতি আজহারুল ইসলাম বাবুল এবং জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের মোঃ রফিকুল আলমসহ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠক, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিপুলসংখ্যক ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত টুর্নামেন্টটির সার্বিক আয়োজন ও তত্ত্বাবধানে রয়েছে বান্দরবান সদর জোন। টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করতে বান্দরবান জেলা প্রশাসন, বান্দরবান ফুটবল ফেডারেশন ও বান্দরবান সম্মিলিত ক্রীড়া পরিষদ সহযোগিতা করছে।

উদ্বোধনী দিনের প্রথম ম্যাচে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বান্দরবান জেলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয় রোয়াংছড়ি উপজেলা পুরুষ দল ও রুমা উপজেলা পুরুষ দল। ম্যাচকে ঘিরে স্টেডিয়ামে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। মাঠে খেলোয়াড়দের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং গ্যালারিতে দর্শকদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ।
আয়োজকরা জানান, টুর্নামেন্টটির লক্ষ্য কেবল একটি ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজন নয়। খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বান্দরবানের বিভিন্ন সম্প্রদায় ও জনগোষ্ঠীর তরুণদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করা এবং তাদের সুস্থ ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে থাকা তরুণ ও উদীয়মান ফুটবল প্রতিভা খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাফুফের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের যাচাই-বাছাইয়ের সুযোগ থাকায় প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের সামনে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরার একটি সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকার তরুণরা একই মাঠে একসঙ্গে খেলায় অংশ নেওয়ার ফলে তাদের মধ্যে পরিচিতি, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। খেলাধুলার এই মিলনমেলা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
বান্দরবানে নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মানবিক সহায়তা, উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করে আসছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। তরুণ সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতির সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এ আয়োজন ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের মাদক ও বিভিন্ন নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে শৃঙ্খলাবোধ, দলগত চেতনা ও ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে জেলা স্টেডিয়ামে ছিল উৎসবের আমেজ। মাঠের লড়াই দেখতে নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতি, খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ এবং দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ফুটবল হয়ে ওঠে মিলন ও সম্প্রীতির উপলক্ষ।
‘খেলাধুলায় সম্প্রীতি, সম্প্রীতিতে সমৃদ্ধি’—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে আয়োজিত ‘সম্প্রীতির বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্ট–২০২৬’ বান্দরবানের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টির পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা আয়োজকদের।