রিমন পালিত:বান্দরবান প্রতিনিধি : পার্বত্য পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জীবিকা উন্নয়নে পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের কার্যক্রম অবহিত করতে বান্দরবানে জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে তাজিংডং বাস্তবায়িত এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল (HKI)-এর আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ‘Access to and Utilization of Lifesaving services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh’শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তাজিংডংয়ের নির্বাহী পরিচালক চিং সিং প্রু এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সামিউল ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবানের পুলিশ সুপার মো. ওহাবুল ইসলাম খন্দকার।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন তাজিংডংয়ের প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর এস এম জাফরুল্লাহ শামসুল, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের টিম লিডার এস এম খালেদুল আহসান, FIVDB-এর WASH স্পেশালিস্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. জিলহাজ উদ্দিনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা।

সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, কর্মপরিকল্পনা, বাস্তবায়ন কৌশল এবং প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় বসবাসকারী প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এসব জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকল্পটির আওতায় দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকার শিশু ও মায়েদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, জীবনরক্ষাকারী স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবার প্রাপ্যতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও জীবিকা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের আর্থসামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বক্তারা আরও বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিতে শুধু একটি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার একক উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নতির পাশাপাশি নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জীবিকা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
সভায় চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টিসেবা নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই পরিবর্তন আনতে প্রকল্পটির কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও অংশীজনদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।