রিমন পালিত: বান্দরবান: দেশের প্রতিটি সংকট, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আর প্রতিটি মানবিক মুহূর্তে একটি নাম নির্ভরতার প্রতীক হয়ে বারবার সামনে আসে, সেটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সীমান্তে অটল প্রহরা থেকে শুরু করে দুর্গম পাহাড়ি জনপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—সবখানেই তাদের উপস্থিতি এক আশ্বাস, এক সাহস, এক ভরসার আলো।
বান্দরবানের আলীকদমে প্রতিষ্ঠিত অত্যাধুনিক Army Hill & Jungle Warfare School এই ধারাবাহিকতারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দুর্গম পাহাড় ও ঘন জঙ্গলে বাস্তব পরিস্থিতির মতো প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সেনাসদস্যদের গড়ে তোলা হচ্ছে আরও দক্ষ, আরও কৌশলী এবং আরও আত্মবিশ্বাসী করে—যাতে দেশের যে কোনো প্রান্তে, যে কোনো পরিস্থিতিতে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে পারে।
কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শক্তি শুধু তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতিতে নয় তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি মানবতার প্রতি অঙ্গীকারে।পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম অঞ্চলে তারা শুধু নিরাপত্তা দেয় না—তারা জীবন গড়ে দেয়।
দুর্গম পাহাড়ে রাস্তা নির্মাণ করে যোগাযোগের নতুন দুয়ার খুলে দেওয়া, প্রত্যন্ত গ্রামে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষার আলো জ্বালানো, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এসব কাজের মাধ্যমে সেনাবাহিনী হয়ে উঠেছে মানুষের আপনজন।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে যখন সবকিছু ভেঙে পড়ে, তখনই প্রথম ছুটে আসে এই বাহিনী,বন্যা, পাহাড়ধস, অগ্নিকাণ্ড কিংবা যেকোনো বিপর্যয়ে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে তাদের নিরলস ভূমিকা অসংখ্য প্রাণ বাঁচিয়েছে।
অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনাই যেন তাদের আরেকটি নীরব দায়িত্ব। পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বিশ্বাস ও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলে তারা কাজ করছে একসাথে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
আজকের বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু একটি প্রতিরক্ষা বাহিনী নয় এটি একটি মানবিক শক্তি, একটি উন্নয়ন সহযোগী, একটি আস্থার নাম। তাদের প্রতিটি পদক্ষেপে আছে দেশপ্রেম, প্রতিটি কাজে আছে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।
দেশের সুরক্ষা থেকে মানুষের সেবা সবখানেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী মানেই সাহস, শৃঙ্খলা, আত্মত্যাগ আর মানবতার এক অবিচল প্রতিচ্ছবি।