রিমন পালিত:বান্দরবান প্রতিনিধি:প্রকৃতির সঙ্গে সম্প্রীতি, টেকসই ভবিষ্যতের অঙ্গীকার এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বান্দরবানে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, চারা ও ছাতা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ৫ জুন শুক্রবার সকালে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একে এস)-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সকালে শহরের চৌধুরী মার্কেট এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে বান্দরবান শহরের রয়েল হোটেলের কনফারেন্স হলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একে এস)-এর নির্বাহী পরিচালক ডনাই প্রু নেলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ম্যাম্যা নু মারমা।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অংচমং মারমা, অনন্যা কল্যাণ সংগঠন (একে এস)-এর প্রোগ্রাম ডিরেক্টর আখ্যাই মং মারমা, স্বাস্থ্য ও সমাজকর্মী নিনি প্রু, বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আমিনুর রহমান প্রামাণিক এবং অনন্যা কল্যাণ সংগঠনের এসি কমিটির নির্বাহী সভাপতি পম্পা রাণী খীসা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো পার্বত্য জেলা বান্দরবানও নানা ধরনের পরিবেশগত ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে। বন উজাড়, পাহাড় কাটা, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়, পানির উৎস সংকুচিত হওয়া এবং অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে স্থানীয় জনজীবন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন, বন সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

বক্তারা আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্ব। আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে হলে বৃক্ষরোপণ, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ও উপকারভোগীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ছাতা বিতরণ করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, নারী নেত্রী, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশ সংরক্ষণে ব্যক্তিগত ও সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।