, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম গড়তে রোয়াংছড়িতে কারবারি-হেডম্যানদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে বান্দরবানে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বান্দরবানে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপন দৈনিক বান্দরবানের কন্ঠ অনলাইন নিউজ প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই।  দীর্ঘ ৭৫ বছর পর বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় মন্দিরে ভোটগ্রহণ, উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতনী সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  উপলক্ষে সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই । বান্দরবানের মানুষ আমার প্রাণ, যতদিন বেঁচে আছি তাদের সেবা করে যাব: এমপি সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা বান্দরবান কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দিরের নবনির্বাচিত সভাপতি রাজেশ্বর দাশ বিপ্লবকে অগ্রিম অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা

বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

  • প্রকাশের সময় : ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
  • ১৪ পড়া হয়েছে

রিমন পালিত: বান্দরবান : বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং বিষয়ে আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বান্দরবান সদরের রয়্যাল হোটেলের হলরুমে দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ (TLMI-B)-এর উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

সভায় ফেসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা সমন্বয়কারী জিংদুহঅম বম।

এতে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা অংচমং মারমা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও জ্ঞানী নেতৃবৃন্দ, যুব সমাজের প্রতিনিধি এবং বান্দরবানের সাত উপজেলার কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভায় কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা ও যুব সমাজের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সচেতনতার অভাব, সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক সময় তারা প্রয়োজনীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ফেসিলিটেটর জিংদুহঅম বম বলেন, “কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতা, যুব সমাজ, সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে তাদের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও স্টিগমা (সামাজিক নেতিবাচক ধারণা) দূর করার পাশাপাশি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা যাতে তারা সহজে পেতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক স্টিগমা দূর করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি, কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের আলোচনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম গড়তে রোয়াংছড়িতে কারবারি-হেডম্যানদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময়

বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

প্রকাশের সময় : ১২:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬

রিমন পালিত: বান্দরবান : বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করতে অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং বিষয়ে আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) বান্দরবান সদরের রয়্যাল হোটেলের হলরুমে দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ (TLMI-B)-এর উদ্যোগে এ আলোচনা সভা ও প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

সভায় ফেসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশের বান্দরবান জেলা সমন্বয়কারী জিংদুহঅম বম।

এতে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তা অংচমং মারমা, বিভিন্ন ধর্মীয় ও জ্ঞানী নেতৃবৃন্দ, যুব সমাজের প্রতিনিধি এবং বান্দরবানের সাত উপজেলার কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

আলোচনা সভায় কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিত করা এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় নেতা ও যুব সমাজের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু সচেতনতার অভাব, সামাজিক কুসংস্কার, বৈষম্য ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেক সময় তারা প্রয়োজনীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। তাদের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

ফেসিলিটেটর জিংদুহঅম বম বলেন, “কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও প্রাপ্য সেবা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ধর্মীয় নেতা, যুব সমাজ, সংগঠন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারলে তাদের জীবনমান উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব।

তিনি বলেন, কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য ও স্টিগমা (সামাজিক নেতিবাচক ধারণা) দূর করার পাশাপাশি তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা যাতে তারা সহজে পেতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি বৈষম্য ও সামাজিক স্টিগমা দূর করা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অধিকারভিত্তিক সেবা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সভায় স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি, কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় সেবা ও সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকরা মনে করেন, এ ধরনের আলোচনা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে এ উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।