
রিমন পালিত:বান্দরবান :বান্দরবান শহরের বালাঘাটা মন্দিরে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীশ্রী গণেশ পূজা। বালাঘাটা জয়ধ্বনি গীতা সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত এ পূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা।
পূজা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ সাজানো হয় নানা আয়োজনে। নির্ধারিত সময়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজা-অর্চনা শুরু হয়। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ ও ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় ভক্তরা অংশ নেন। এ সময় ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করে নিজেদের পরিবার, সমাজ ও দেশের সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনা করেন।

গণেশকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে জ্ঞান, বুদ্ধি, সিদ্ধি ও শুভ সূচনার দেবতা হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়। তাই নতুন ও শুভ কাজের শুরুতে গণেশের আরাধনার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই প্রতিবছর বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে শ্রীশ্রী গণেশ পূজার আয়োজন করা হয়ে থাকে।
বালাঘাটা মন্দিরে আয়োজিত পূজাকে ঘিরে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভক্তরা পূজামণ্ডপে এসে প্রার্থনা ও অঞ্জলির পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এতে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।

আয়োজক বালাঘাটা জয়ধ্বনি গীতা সংঘের পক্ষ থেকে বলা হয়, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করাই এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। সবাই যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
স্থানীয় ভক্তরা বলেন, বান্দরবান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির একটি অনন্য উদাহরণ। ধর্মীয় উৎসবগুলো সেই সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। গণেশ পূজার মাধ্যমে সবার জীবনে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরে আসবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
শ্রীশ্রী গণেশ পূজাকে কেন্দ্র করে বালাঘাটা মন্দির প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভক্তরা সিদ্ধিদাতা গণেশের আশীর্বাদ কামনা করেন এবং দেশ ও জাতির শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন।










