, রবিবার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ফিরে আসা বম-ত্রিপুরা-ম্রো জনগোষ্ঠীর পাশে সেনাবাহিনী, ১২ গ্রামের জন্য দুইটি চাঁদের গাড়ি হস্তান্তর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বান্দরবানে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা প্রয়াত নিরাপত্তা প্রহরীর পরিবারের পাশে বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট চেয়ারম্যান বান্দরবানে ২০ বছর ধরে পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি উসিংনু মার্মাকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-১৫। কুষ্ঠ রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে বান্দরবানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে দি লেপ্রসি মিশন ইন্টারন্যাশনাল কুষ্ঠ রোগীদের বর্জন নয়, সচেতনতা ও মানবিক আচরণের আহ্বান চার ধর্মীয় গুরুর বান্দরবানে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা নিয়ে মতবিনিময় সভা বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সেনাবাহিনীর শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ বান্দরবানে ১০ লিটার দেশীয় চোলাই মদসহ নারী গ্রেপ্তার মানবিকতার আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক

রাতভর সেনাবাহিনীর চৌকস অভিযানে টংকাবতীতে অপহৃত ৬ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

  • প্রকাশের সময় : ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৩ পড়া হয়েছে

রিমন পালিত: বান্দরবান : বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত ৬ জন রাবার শ্রমিককে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর বান্দরবান সেনা জোন (২৮ ই বেঙ্গল)-এর দ্রুত ও পরিকল্পিত অভিযানের ফলে এই সফল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে টংকাবতী ইউনিয়নের ইসমাইলের রাবার বাগান এলাকা থেকে অজ্ঞাত সশস্ত্র একটি দল ৬ জন শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন ২৩ এপ্রিল অপহরণকারীরা একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মোঃ ইসমাইলের কাছে ফোন করে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং অর্থ প্রদান না করলে কিংবা বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে অপহৃতদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

অপহরণের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই বান্দরবান সেনা জোন বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য নিয়ে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে। ২৩ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল ভোর ৫টা পর্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দিন-রাতব্যাপী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ এপ্রিল ভোরে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা অপহৃত শ্রমিকদের পাহাড়ে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে অপহৃতদের জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে। এসময় ম্যাংতাং ম্রো (৩০), পিতা: পাড়াও ম্রো, গ্রাম: লাকড়ি পাড়া, টংকাবতী নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উদ্ধারকৃত শ্রমিকরা হলেন—মো. ইসমাইল, মো. আরাফাত, মো. শফিক, মো. নুরুল আফসার, মো. কলিমুল্লাহ এবং মো. রমিত। উদ্ধার শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই সফল অভিযান পাহাড়ি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থান এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাদের অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা সেনাবাহিনীর এমন দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

 

জনপ্রিয়

ফিরে আসা বম-ত্রিপুরা-ম্রো জনগোষ্ঠীর পাশে সেনাবাহিনী, ১২ গ্রামের জন্য দুইটি চাঁদের গাড়ি হস্তান্তর

রাতভর সেনাবাহিনীর চৌকস অভিযানে টংকাবতীতে অপহৃত ৬ শ্রমিক জীবিত উদ্ধার

প্রকাশের সময় : ০৪:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রিমন পালিত: বান্দরবান : বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে অজ্ঞাত সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে অপহৃত ৬ জন রাবার শ্রমিককে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর বান্দরবান সেনা জোন (২৮ ই বেঙ্গল)-এর দ্রুত ও পরিকল্পিত অভিযানের ফলে এই সফল উদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

জানা যায়, গত ২২ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে টংকাবতী ইউনিয়নের ইসমাইলের রাবার বাগান এলাকা থেকে অজ্ঞাত সশস্ত্র একটি দল ৬ জন শ্রমিককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরদিন ২৩ এপ্রিল অপহরণকারীরা একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে মোঃ ইসমাইলের কাছে ফোন করে ২০ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং অর্থ প্রদান না করলে কিংবা বিষয়টি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে অপহৃতদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।

অপহরণের ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই বান্দরবান সেনা জোন বিপুল সংখ্যক সেনাসদস্য নিয়ে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করে। ২৩ এপ্রিল থেকে ২৪ এপ্রিল ভোর ৫টা পর্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় দিন-রাতব্যাপী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২৪ এপ্রিল ভোরে একটি বিশেষ অভিযান চালানো হলে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারীরা অপহৃত শ্রমিকদের পাহাড়ে রেখেই দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে অপহৃতদের জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে আসে। এসময় ম্যাংতাং ম্রো (৩০), পিতা: পাড়াও ম্রো, গ্রাম: লাকড়ি পাড়া, টংকাবতী নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

উদ্ধারকৃত শ্রমিকরা হলেন—মো. ইসমাইল, মো. আরাফাত, মো. শফিক, মো. নুরুল আফসার, মো. কলিমুল্লাহ এবং মো. রমিত। উদ্ধার শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এই সফল অভিযান পাহাড়ি এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর দৃঢ় অবস্থান এবং সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে তাদের অঙ্গীকারের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং তারা সেনাবাহিনীর এমন দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।