, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবানের বালাঘাটায় জয়ধ্বনি গীতা সংঘের আয়োজনে শ্রীশ্রী গণেশ পূজা বাল্যবিবাহমুক্ত গ্রাম গড়তে রোয়াংছড়িতে কারবারি-হেডম্যানদের সঙ্গে প্রশাসনের মতবিনিময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে বান্দরবানে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা বান্দরবানে কুষ্ঠ ও প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান বান্দরবানে আন্তর্জাতিক যুব দিবস উদযাপন দৈনিক বান্দরবানের কন্ঠ অনলাইন নিউজ প্রতিষ্ঠানের প্রথম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই।  দীর্ঘ ৭৫ বছর পর বান্দরবান সার্বজনীন কেন্দ্রীয় মন্দিরে ভোটগ্রহণ, উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতনী সমাজের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস  উপলক্ষে সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছেন পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই । বান্দরবানের মানুষ আমার প্রাণ, যতদিন বেঁচে আছি তাদের সেবা করে যাব: এমপি সাচিং প্রু জেরী বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা

ফিরে আসা বম-ত্রিপুরা-ম্রো জনগোষ্ঠীর পাশে সেনাবাহিনী, ১২ গ্রামের জন্য দুইটি চাঁদের গাড়ি হস্তান্তর

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ পড়া হয়েছে

রিমন পালিত:বান্দরবান:  দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যাবর্তনকৃত বম, ত্রিপুরা ও ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে থানচি ও রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার ১২টি পাহাড়ি গ্রামের মানুষের জন্য দুইটি চাঁদের গাড়ি (স্থানীয় পরিবহন) হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে থানচির কুংহ্লা-কাইথন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব যানবাহনের চাবি সংশ্লিষ্ট গ্রামের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সদর দপ্তর বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনায় বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন গ্রামগুলোর জন্য এ সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় একটি বম পাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে কুকি-চিন সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশে ফিরে আসা ছয়টি বমপাড়া, একটি ত্রিপুরাপাড়া ও পাঁচটি ম্রোপাড়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পরিবহন সংকট বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম (পিএসসি), বলীপাড়া ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বান্দরবান রিজিয়নের জি-৩ ক্যাপ্টেন সামিউল ইসলাম, থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল, মেজর আসিফ জুবায়ের এবং পার্বত্য বম কাউন্সিল সোসাইটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য লালজার বমসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম এলাকার জন্য দেওয়া দুইটি যানবাহন রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও ফলমূল বাজারে পৌঁছানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এসব যানবাহন পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগ বাড়বে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বান্দরবানের বালাঘাটায় জয়ধ্বনি গীতা সংঘের আয়োজনে শ্রীশ্রী গণেশ পূজা

ফিরে আসা বম-ত্রিপুরা-ম্রো জনগোষ্ঠীর পাশে সেনাবাহিনী, ১২ গ্রামের জন্য দুইটি চাঁদের গাড়ি হস্তান্তর

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

রিমন পালিত:বান্দরবান:  দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের প্রত্যাবর্তনকৃত বম, ত্রিপুরা ও ম্রো জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। বান্দরবান রিজিয়নের উদ্যোগে থানচি ও রুমা উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকার ১২টি পাহাড়ি গ্রামের মানুষের জন্য দুইটি চাঁদের গাড়ি (স্থানীয় পরিবহন) হস্তান্তর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে থানচির কুংহ্লা-কাইথন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব যানবাহনের চাবি সংশ্লিষ্ট গ্রামের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সদর দপ্তর বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনায় বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন গ্রামগুলোর জন্য এ সহায়তা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। তিনি স্থানীয় একটি বম পাড়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে আয়োজিত বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

সেনাবাহিনী সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে কুকি-চিন সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রেক্ষাপটে ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশে ফিরে আসা ছয়টি বমপাড়া, একটি ত্রিপুরাপাড়া ও পাঁচটি ম্রোপাড়ার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পরিবহন সংকট বিবেচনায় নিয়ে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম (পিএসসি), বলীপাড়া ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বান্দরবান রিজিয়নের জি-৩ ক্যাপ্টেন সামিউল ইসলাম, থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল, মেজর আসিফ জুবায়ের এবং পার্বত্য বম কাউন্সিল সোসাইটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য লালজার বমসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, দুর্গম এলাকার জন্য দেওয়া দুইটি যানবাহন রোগীকে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও ফলমূল বাজারে পৌঁছানো এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এসব যানবাহন পরিচালনার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তারা।

স্থানীয়দের মতে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগ বাড়বে। সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে আরও সহজ করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।