
রিমন পালিত: বান্দরবান প্রতিনিধি:বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতকরণে বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অংশীজনদের সমন্বয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় রোয়াংছড়ির চার ইউনিয়নে ওয়াস প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন কার্যক্রম, উপকারভোগীদের জন্য নেওয়া উদ্যোগ এবং চলমান কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।
ওয়ার্ল্ড ভিশন ইউএসএ’র অর্থায়নে এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের সহযোগিতায় হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের রোয়াংছড়ি এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় সভাটির আয়োজন করা হয়।

হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার উসাইম্যা মারমার সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ রোয়াংছড়ি এপি ম্যানেজার চাংম্বুগং। প্রধান অতিথি ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি থানার এসআই শুভ্রমুকুল চৌধুরী, রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উসাইচিং মারমা, তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য উমংসিং মারমা, আলেক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ভারতসেন তঞ্চঙ্গ্যা এবং নোয়াপতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ক্যনুপ্রু মারমা।
সভায় ওয়াশ প্রোগ্রাম অফিসার মংটিংসাই মারমা প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রকল্পের অগ্রগতির বিস্তারিত চিত্র উপস্থাপন করেন। এতে জানানো হয়, চার ইউনিয়নে স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে রোয়াংছড়ি সদর ইউনিয়নে ৮৬টি, তারাছায় ৯৩টি, আলেক্ষ্যংয়ে ৭২টি এবং নোয়াপতংয়ে ৭৯টি স্যানিটেশন বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা নির্মাণ, নতুন কমিউনিটি-ভিত্তিক পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু, কমিউনিটি ওয়াটার পয়েন্ট সংস্কার এবং বিদ্যালয়ের পানি সরবরাহ পয়েন্ট মেরামতের কাজ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসম্মত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হ্যান্ডওয়াশ স্টেশনও নির্মাণ করা হয়েছে।
পরিবারভিত্তিক স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়নে ৩৩০টি ল্যাট্রিন নির্মাণের তথ্যও সভায় তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে স্যানিটেশন অবকাঠামো ও এমএইচএম (MHM) কর্নার স্থাপন এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ ও ব্যবহারোপযোগী স্যানিটেশন ও মৌলিক হাইজিন সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে এসব সুবিধার সুফল দীর্ঘস্থায়ী করতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সচেতনতা, নিয়মিত ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
ওয়াস কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, ওয়াশ কমিটি, কারবারি এবং স্থানীয় সামাজিক নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সভায় রোয়াংছড়ির চার ইউনিয়নের ওয়াশ কমিটির সভাপতি, গ্রাম পর্যায়ের কারবারি এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।










