
রিমন পালিত:বান্দরবান: মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব সাংগ্রাইকে সামনে রেখে বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২ নম্বর তারাছা ইউনিয়নে একটি উৎসব উদযাপন কমিটি গঠন করা হয়েছে। আসন্ন ‘মাহা সাংগ্রাই মৈত্রী মিলন মেলা-২০২৬’ সুষ্ঠু ও আনন্দমুখর পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।
গত ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্থানীয় হেডম্যান, কারবারি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটি গঠনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

নবগঠিত কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রোমিও মারমা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন মংসিউ মারমা। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে উথোইঞো মারমা, সহ-সভাপতি পদে শৈপ্রুঅং মারমা, অর্থ সম্পাদক হিসেবে উচসিং মারমা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে অংথোয়ইসা মারমা দায়িত্ব পেয়েছেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, যা উৎসবের সকল আয়োজন বাস্তবায়নে কাজ করবে।
আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৯ এপ্রিল তারাছা ইউনিয়ন মাঠ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাহা সাংগ্রাই মৈত্রী মিলন মেলা অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা, আলোচনা সভা, ঐতিহ্যবাহী জল উৎসব এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

বান্দরবানের পাহাড়ে এবারের সাংস্কৃতিক উৎসব উদযাপন করতে তৈরি হয়েছে বিশেষ উৎসব কমিটি। কমিটি জানিয়েছে, এবারের অনুষ্ঠানে পানি খেলা থাকবে প্রধান আকর্ষণ, যা স্থানীয়দের প্রাচীন ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় কারুশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রদর্শনীও থাকবে, যা অংশগ্রহণকারীদের জন্য আনন্দ ও শিক্ষার এক বিশেষ অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।
উৎসব কমিটি আশা প্রকাশ করেছে, এই আয়োজন পাহাড়ের ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেবে এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে দেবে।
তারা জানান, সাংগ্রাই উৎসব মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে পার্বত্য অঞ্চলে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎসবটি সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।












