, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবান জেলা পরিষদে ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে কাজী নিরুতাজ বেগম বান্দরবানে মারমা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সাইনি রিসোর্টের মালিক শৈক্য চিং মার্মার বিরুদ্ধে মামলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা দেবদেবীর ৫০ প্রতিমায় বর্ণিল আয়োজন, বালাঘাটা মন্দিরের দুর্গোৎসবে থাকছে থিমের বিশেষ চমক, দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা, সফল আয়োজনের লক্ষ্যে মন্দির কমিটির সভা দায়িত্বের পালাবদলে নতুন অধ্যায়, নতুন নেতৃত্বে বান্দরবান কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির , দায়িত্ব নিলেন রাজেশ্বর দাশ বিপ্লব, রিটল কান্তি বিশ্বাস ও দয়াল চৌধুরী পাহাড়ে ফুটবলের উচ্ছ্বাস, সম্প্রীতির বার্তা ছড়াল সেনাবাহিনী বাল্যবিবাহমুক্ত বান্দরবান গড়ার উদ্যোগ, গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইল প্রশাসন রোয়াংছড়ির পাহাড়ে নিরাপদ পানির নতুন ঠিকানা, ওয়াস প্রকল্পে বদলাচ্ছে স্যানিটেশন চিত্র নারীরা দেশের বোঝা নয়, একজন মা ও শিশু দেশের ভবিষ্যৎ: ইউএনও তাজমিন আলম তুলি বান্দরবানের বালাঘাটায় জয়ধ্বনি গীতা সংঘের আয়োজনে শ্রীশ্রী গণেশ পূজা

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে বান্দরবানে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা

  • প্রকাশের সময় : ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৪৪ পড়া হয়েছে

রিমন পালিত:বান্দরবান : প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জীবিকায়ন সেবায় প্রবেশাধিকার এবং এসব সেবার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বান্দরবান সদর উপজেলায় প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে “Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh” শীর্ষক প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল (HKI)-এর আর্থিক সহায়তায় তহ্জিংডং বাস্তবায়ন করছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তহ্জিংডংয়ের কর্মসূচি পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, তহ্জিংডং, এফআইভিডিবি (FIVDB)-এর প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইফুল ইসলাম পারভেজ। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন তহ্জিংডংয়ের প্রকল্প সমন্বয়কারী এস. এম. জাফরুল্লাহ শামসুল। পরে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তহ্জিংডংয়ের কর্মসূচি পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিন।

সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রধান কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার বোধি প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা। এ সময় তহ্জিংডং ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার শিশু, মা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং তীব্র অপুষ্টি (SAM) ও মাঝারি অপুষ্টি (MAM) আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যবিধি চর্চার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, বান্দরবান সদর উপজেলার দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগোষ্ঠীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও জীবিকায়ন সেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। এসব জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকর ও জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বান্দরবানের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসার এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।

জনপ্রিয়

বান্দরবান জেলা পরিষদে ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে কাজী নিরুতাজ বেগম

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন রক্ষাকারী সেবায় প্রবেশাধিকার বাড়াতে বান্দরবানে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা

প্রকাশের সময় : ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

রিমন পালিত:বান্দরবান : প্রান্তিক ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন ও জীবিকায়ন সেবায় প্রবেশাধিকার এবং এসব সেবার ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বান্দরবান সদর উপজেলায় প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) বান্দরবান সদর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে “Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh” শীর্ষক প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল (HKI)-এর আর্থিক সহায়তায় তহ্জিংডং বাস্তবায়ন করছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তহ্জিংডংয়ের কর্মসূচি পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিন। এ ছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, তহ্জিংডং, এফআইভিডিবি (FIVDB)-এর প্রকল্প কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইফুল ইসলাম পারভেজ। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন তহ্জিংডংয়ের প্রকল্প সমন্বয়কারী এস. এম. জাফরুল্লাহ শামসুল। পরে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন তহ্জিংডংয়ের কর্মসূচি পরিচালক মো. জিয়া উদ্দিন।

সভায় প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রধান কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপন করেন প্রকল্পের মনিটরিং অফিসার বোধি প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যা। এ সময় তহ্জিংডং ও হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা প্রকল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মতামত, পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করা হয়।

সভায় জানানো হয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলার দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার শিশু, মা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অপুষ্টি প্রতিরোধ, জীবন রক্ষাকারী স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং তীব্র অপুষ্টি (SAM) ও মাঝারি অপুষ্টি (MAM) আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই জীবিকায়নের সুযোগ সৃষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যবিধি চর্চার উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, বান্দরবান সদর উপজেলার দুর্গম ও প্রান্তিক এলাকার জনগোষ্ঠীর কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগোষ্ঠীর সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য, পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন ও জীবিকায়ন সেবার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়। এসব জনগোষ্ঠীর কাছে কার্যকর ও জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তারা আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বান্দরবানের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রসার এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নের জন্য নিজেদের সহযোগিতা ও সমর্থনের আশ্বাস দেন।