, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবান জেলা পরিষদে ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে কাজী নিরুতাজ বেগম বান্দরবানে মারমা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সাইনি রিসোর্টের মালিক শৈক্য চিং মার্মার বিরুদ্ধে মামলা বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ত্রাণ প্রকল্পের অবহিতকরণ সভা দেবদেবীর ৫০ প্রতিমায় বর্ণিল আয়োজন, বালাঘাটা মন্দিরের দুর্গোৎসবে থাকছে থিমের বিশেষ চমক, দুর্গাপূজাকে ঘিরে ব্যতিক্রমী পরিকল্পনা, সফল আয়োজনের লক্ষ্যে মন্দির কমিটির সভা দায়িত্বের পালাবদলে নতুন অধ্যায়, নতুন নেতৃত্বে বান্দরবান কেন্দ্রীয় দুর্গা মন্দির , দায়িত্ব নিলেন রাজেশ্বর দাশ বিপ্লব, রিটল কান্তি বিশ্বাস ও দয়াল চৌধুরী পাহাড়ে ফুটবলের উচ্ছ্বাস, সম্প্রীতির বার্তা ছড়াল সেনাবাহিনী বাল্যবিবাহমুক্ত বান্দরবান গড়ার উদ্যোগ, গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইল প্রশাসন রোয়াংছড়ির পাহাড়ে নিরাপদ পানির নতুন ঠিকানা, ওয়াস প্রকল্পে বদলাচ্ছে স্যানিটেশন চিত্র নারীরা দেশের বোঝা নয়, একজন মা ও শিশু দেশের ভবিষ্যৎ: ইউএনও তাজমিন আলম তুলি বান্দরবানের বালাঘাটায় জয়ধ্বনি গীতা সংঘের আয়োজনে শ্রীশ্রী গণেশ পূজা

মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ’র রঙে রাঙা তারাছা—মৈত্রী পানি বর্ষণে প্রাণবন্ত মারমা তরুণ-তরুণী

  • প্রকাশের সময় : ১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • ১২৪ পড়া হয়েছে

রিমন পালিত: বান্দরবান: ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনে উৎসবমুখর রোয়াংছড়ির ২ নং তারাছা ইউনিয়ন । বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২ নম্বর তারাছা ইউনিয়নে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে মৈত্রী পানি বর্ষণ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জনপদ।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে বেতছড়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে তারাছা ইউনিয়ন সাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নেয় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩১৬ নম্বর বেতছড়া মৌজার হেডম্যান ও হেডম্যান-কারবারি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হ্লাথোয়াইহ্রী মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৪০ নম্বর মৌজার হেডম্যান ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উনিহ্লা মারমা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মংবাথোয়াই মারমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাছা ইউনিয়ন সাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোমিও মারমা। সঞ্চালনায় ছিলেন ক্রাই নুচিং মারমা, শৈপ্রুঅং মারমা ও মাং সিংউ মারমা। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল মৈত্রী পানি বর্ষণ, যা মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এই আয়োজনে তরুণ-তরুণীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। খুনসুটি, হাসি আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। এতে নতুন প্রজন্মের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা আরও সুদৃঢ় হয়।

দিনভর আয়োজনে মারমা ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ এই আনন্দে শামিল হয়। পাহাড়ি সংস্কৃতির রঙিন বহিঃপ্রকাশে উৎসবটি হয়ে ওঠে এক অনন্য মিলনমেলা।

এবারের আয়োজনে বিদেশি দর্শনার্থীরাও অংশ নিয়ে কাছ থেকে উপভোগ করেন মারমা সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাদের উপস্থিতি উৎসবের আবেদনকে আরও বিস্তৃত করে এবং পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে।

তারাছা ইউনিয়ন সাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোমিও মারমা জানান, মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ শুধু একটি উৎসব নয়; এটি নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো দুঃখ-গ্লানি ভুলে যাওয়ার প্রতীক। মৈত্রী পানি বর্ষণের মধ্য দিয়ে একে অপরের প্রতি শুভকামনা ও সম্প্রীতির বার্তা বিনিময় করা হয়।

তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা জানান, সামগ্রিকভাবে, এ আয়োজন শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল পাহাড়ি জনপদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি—যা প্রতি বছর নতুন করে ভালোবাসা, ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

জনপ্রিয়

বান্দরবান জেলা পরিষদে ক্রীড়া বিভাগের দায়িত্বে কাজী নিরুতাজ বেগম

মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ’র রঙে রাঙা তারাছা—মৈত্রী পানি বর্ষণে প্রাণবন্ত মারমা তরুণ-তরুণী

প্রকাশের সময় : ১২:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

রিমন পালিত: বান্দরবান: ঐতিহ্য সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনে উৎসবমুখর রোয়াংছড়ির ২ নং তারাছা ইউনিয়ন । বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার ২ নম্বর তারাছা ইউনিয়নে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ঐতিহ্যবাহী উৎসব মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে মৈত্রী পানি বর্ষণ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে ওঠে পুরো জনপদ।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে বেতছড়া বাজারসংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে তারাছা ইউনিয়ন সাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী এ উৎসবে অংশ নেয় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও দূরদূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩১৬ নম্বর বেতছড়া মৌজার হেডম্যান ও হেডম্যান-কারবারি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হ্লাথোয়াইহ্রী মারমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৪০ নম্বর মৌজার হেডম্যান ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উনিহ্লা মারমা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মংবাথোয়াই মারমা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তারাছা ইউনিয়ন সাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোমিও মারমা। সঞ্চালনায় ছিলেন ক্রাই নুচিং মারমা, শৈপ্রুঅং মারমা ও মাং সিংউ মারমা। এ সময় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল মৈত্রী পানি বর্ষণ, যা মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। এই আয়োজনে তরুণ-তরুণীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। খুনসুটি, হাসি আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। এতে নতুন প্রজন্মের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যের বার্তা আরও সুদৃঢ় হয়।

দিনভর আয়োজনে মারমা ঐতিহ্যবাহী সংগীত, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ এই আনন্দে শামিল হয়। পাহাড়ি সংস্কৃতির রঙিন বহিঃপ্রকাশে উৎসবটি হয়ে ওঠে এক অনন্য মিলনমেলা।

এবারের আয়োজনে বিদেশি দর্শনার্থীরাও অংশ নিয়ে কাছ থেকে উপভোগ করেন মারমা সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। তাদের উপস্থিতি উৎসবের আবেদনকে আরও বিস্তৃত করে এবং পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করে।

তারাছা ইউনিয়ন সাংগ্রাই উদযাপন পরিষদের সভাপতি রোমিও মারমা জানান, মাহা সাংগ্রাই পোয়েঃ শুধু একটি উৎসব নয়; এটি নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি পুরোনো দুঃখ-গ্লানি ভুলে যাওয়ার প্রতীক। মৈত্রী পানি বর্ষণের মধ্য দিয়ে একে অপরের প্রতি শুভকামনা ও সম্প্রীতির বার্তা বিনিময় করা হয়।

তারাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উনুমং মারমা জানান, সামগ্রিকভাবে, এ আয়োজন শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এটি ছিল পাহাড়ি জনপদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি—যা প্রতি বছর নতুন করে ভালোবাসা, ঐক্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়।