
রিমন পালিত, বান্দরবান প্রতিনিধি: ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং অনলাইন নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বান্দরবানে ‘ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন ফর ডিজিটাল ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক অর্ধদিবস কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) সকালে বান্দরবান শহরের মেঘলা এলাকায় অবস্থিত হলিডে ইন রিসোর্টে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত ‘স্বাধীনতা’ প্রকল্পের আওতায় সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশী কর্মশালাটি পরিচালনা করে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি জেলায় এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কর্মশালায় জেলার তরুণ সাংবাদিক, কনটেন্ট ক্রিয়েটর, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন পেশার তরুণ প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় মানবাধিকার, ডিজিটাল মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা, তথ্য যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং), প্রযুক্তিনির্ভর অনলাইন জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত ও মোকাবিলার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় ধারণা ও ব্যবহারিক দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রত্যাশীর ‘স্বাধীনতা’ প্রকল্পের চট্টগ্রাম বিভাগের ফোকাল পারসন মাখনুন সুলতানা। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এ স্বাধীনতার চর্চার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা প্রকল্পের বান্দরবান জেলা কোয়ালিশনের সদস্য সৌমেন দে এবং উ চ সিং মারমা। তারা ডিজিটাল পরিসরে ক্রমবর্ধমান ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও অনলাইন সহিংসতার ঝুঁকি মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তথ্যনির্ভর ও দায়িত্বশীল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

আয়োজকরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিস্তারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তথ্য যাচাই, নিরাপদ অনলাইন আচরণ এবং মতপ্রকাশের অধিকারের বিষয়ে জনগণের, বিশেষ করে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
কর্মশালার শেষে অংশগ্রহণকারীরা ডিজিটাল মাধ্যমে নিরাপদ ও দায়িত্বশীল মতপ্রকাশের সংস্কৃতি গড়ে তোলা, তথ্য যাচাইয়ের চর্চা বৃদ্ধি এবং মানবাধিকারভিত্তিক ডিজিটাল পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।










