, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
বান্দরবান ভাগ্যকূল এলাকায় যুবদল সদস্য মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ পাহাড়ে শিক্ষার ডিজিটাল জাগরণ: বান্দরবানে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়ও নিরলস সেবা: দ্রুত সংস্কার জরুরি বান্দরবান সোনালী ব্যাংক ভবন আলীকদমে সেনাবাহিনী নির্মিত ৩৭ কিলোমিটার সড়ক হস্তান্তর: পাহাড়ে যোগাযোগে নতুন দিগন্ত ‎ সাংগ্রাই উপলক্ষে তারাছায় ৩১ সদস্য বিশিষ্ট উৎসব উদযাপন কমিটি গঠন , সভা: রোমিও মারমা, সা. সম্পা: মংসিউ মারমা পাহাড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আলীকদম সেনাজোন লামায় তিনটি ইটভাটায় অভিযানে, ০৬ লক্ষ টাকা জরিমানা আলীকদমে ম্রো গ্রামে বাঁশের কঞ্চি ও লাউলের খোলের তৈরি প্লুং বাঁশিতে বেজে উঠে উৎসবের আমেজ তেলের সংকটে স্বস্তির হাসি: এমপি সাচিং প্রু জেরীর উদ্যোগে খুশি বান্দরবানের পর্যটকরা

পাহাড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আলীকদম সেনাজোন

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
  • ৮ পড়া হয়েছে

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম(বান্দরবান)প্রতিনিধি।
‎বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম প্রান্তিক জনপদে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করে জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

‎রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯ ঘটিকাট সময় আলীকদম সেনাজোনের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দূর্গম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাহাড়ি বেকার যুবকদের কে বিনামূল্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এমন মানবিক এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‎তথ্য সূত্রে জানা যায়,পাহাড়ি দুর্গমতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে জরুরি মুহূর্তে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায়ই অসম্ভব হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আলীকদম উপজেলার ২২টি পাড়া থেকে ২৭ জন (১৯জন পুরুষ ও ৮ জন নারী)উদ্যমী প্রশিক্ষণার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী কৌশল। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষত ও জখমের সঠিক ব্যবস্থাপনা, হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের জরুরি সেবা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবার ঘটনায় তাৎক্ষণিক করণীয়, অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং নিরাপদে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের পদ্ধতি।

‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আবুল হাসান পলাশ,পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম,ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ আলী তাওহীদ, জোনাল স্টাফ অফিসার (ZSO) আলীকদম সেনাজোন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসান।

বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট—যা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নামে পরিচিত—জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে যে দক্ষতা ও সচেতনতা তৈরি হবে, তা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি শক্তিশালী মানবিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলবে।

‎বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে তাদের এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ভবিষ্যতে দুর্গম অঞ্চলের জরুরি চিকিৎসাসেবার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

জনপ্রিয়

পাহাড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে আলীকদম সেনাজোন

প্রকাশের সময় : ০৭:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

সুশান্ত কান্তি তঞ্চঙ্গ্যাঁ, আলীকদম(বান্দরবান)প্রতিনিধি।
‎বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম প্রান্তিক জনপদে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করে জীবন রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

‎রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯ ঘটিকাট সময় আলীকদম সেনাজোনের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দূর্গম প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পাহাড়ি বেকার যুবকদের কে বিনামূল্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও নার্সিং প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। এমন মানবিক এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

‎তথ্য সূত্রে জানা যায়,পাহাড়ি দুর্গমতা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে জরুরি মুহূর্তে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায়ই অসম্ভব হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় স্থানীয় পর্যায়ে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আলীকদম উপজেলার ২২টি পাড়া থেকে ২৭ জন (১৯জন পুরুষ ও ৮ জন নারী)উদ্যমী প্রশিক্ষণার্থীকে বাছাই করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবেন।

‎উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে বিভিন্ন জীবনরক্ষাকারী কৌশল। এর মধ্যে রয়েছে তীব্র রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ, ক্ষত ও জখমের সঠিক ব্যবস্থাপনা, হাড় ভাঙা ও শারীরিক আঘাতের জরুরি সেবা, সাপের কামড়, অগ্নিকাণ্ড ও পানিতে ডোবার ঘটনায় তাৎক্ষণিক করণীয়, অচেতন রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখা এবং নিরাপদে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের পদ্ধতি।

‎উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. আবুল হাসান পলাশ,পিএসসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম,ক্যাপ্টেন মুহাম্মদ আলী তাওহীদ, জোনাল স্টাফ অফিসার (ZSO) আলীকদম সেনাজোন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসান।

বক্তারা বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিট—যা ‘গোল্ডেন আওয়ার’ নামে পরিচিত—জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে যে দক্ষতা ও সচেতনতা তৈরি হবে, তা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একটি শক্তিশালী মানবিক সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলবে।

‎বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে তাদের এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় করছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা ভবিষ্যতে দুর্গম অঞ্চলের জরুরি চিকিৎসাসেবার ঘাটতি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।